করোনায় বাংলাদেশে যেন দুর্ভিক্ষের প্রভাব না পড়ে প্রস্তুত ছিলাম: প্রধানমন্ত্রী

Date:

ভিশন ডেস্ক: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দেশে যেন দুর্ভিক্ষের প্রভাব না পড়ে, সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষণ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি ভেবেছি, করোনা ভাইরাসের কারণে হয়তো বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক ছিলাম বাংলাদেশে যেন কোনোভাবেই সেই দুর্ভিক্ষের প্রভাব না পড়ে। যতটুকু পারি খাদ্য উৎপাদন করা, খাদ্য বিতরণ করা, দরিদ্র মানুষকে বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া, সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি মানুষকে, যারা গৃহহীন, তাদের গৃহ নির্মাণ করে দেব। যারা ভূমিহীন, তাদের ভূমির ব্যবস্থা করে দেব। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। পুষ্টির নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। পাশাপাশি বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। সব মানুষ যাতে এই প্রণোদনার সহযোগিতাটা পায়, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি। আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি খাদ্যের ওপর। মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। ৪০ শতাংশ দারিদ্র্য ছিল। সেই হার আমরা ২০ শতাংশে এনেছি। আমরা আরও কমাতে চাই।

তিনি বলেন, বিশ্বে করোনা ভাইরাস নামে এখন যে মহাদুর্যোগ চলছে, তা থেকে বিশ্ববাসী শিগগিরই মুক্তি পাক এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। মানুষ আবার সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারুক এটাই আমরা চাই। এই সময় আমাদের সাধারণত জাতিসংঘে থাকার কথা। কিন্তু যেতে পারিনি করোনা ভাইরাসের কারণে। প্রতিবার আমি জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছি। এবার আমার ১৭তম ভাষণ আমি দিতে পারছি না, এটা দুঃখজনক। আসলে জাতিসংঘে সব দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়। পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়। একে অপরকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, একে অপরকে জানতে পারি। এখন বিশ্বে কূটনীতি পরিবর্তন হয়েছে। আগে ছিল রাজনৈতিক কূটনীতি। এখন হয়েছে অর্থনৈতিক কূটনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো, কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, পরস্পরকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, এসব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, ওই দিনটিও শুক্রবার ছিল, তিনি বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তা যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্যোগে যদি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এরজন্য সহযোগিতা করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের সামাজিক উন্নয়ন, গরিব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, রোগ-শোক মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার অসম্পন্ন কাজ আমরা সম্পন্ন করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতা এদেশের মানুষকে যে মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন, তাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তা ভূলুণ্ঠিত হয়। আমি যখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে বিদেশ থেকে ফিরে এলাম, তখন আমার লক্ষ্য ছিল এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তখন দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, মানুষের অধিকার ছিল না, মুখে গণতন্ত্র ছিল। এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। সেই ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমার লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সূত্র: বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগ করেছেন। গুয়েনার প্রেসিডেন্ট এবং...

কোভিড বিশ্বব্যাপী মানুষের আয়ু ১.৬ বছর কমিয়েছে : গবেষণা

কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম দুই বছরে বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু...

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।...

ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের দক্ষিণে কুয়েত গোলচত্বরে ত্রাণ নিতে জড়ো...